পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছে দেশটির একটি প্রতিরক্ষা সূত্র। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রুশ গণমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো হামলার “বিস্তৃত এবং সীমাহীন জবাব” দেওয়া হবে।
সূত্রটি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র “ইরানের সক্ষমতা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর দৃঢ়সংকল্প সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত।” একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে ইরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন।
ইরানি সূত্রের ভাষ্য, “ইরান দীর্ঘ ও নিষ্ফল আলোচনায় আটকে থাকবে না। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ক্ষীণ—এমন আলোচনার কোনো মূল্য নেই।”জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং সম্প্রতি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ও অতিরিক্ত বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান স্ন্যাপ লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আক্রমণ করা হলে তারা এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি তাদের সার্বভৌম অধিকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান শিগগিরই একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক পথই অগ্রাধিকার হলেও দেশটি “যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।”